
সুমন কুমার বুলেট নওগাঁ জেলাঃ
পুলিশ এবং প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ডিসি, এসপি পরিচয়দানকারী বিশিষ্ট আঞ্চলিক প্রতারক মোট ০৪ টি মোবাইল ও ৩৮ টি সিম কার্ড সহ গ্রেফতার
ইং ২৫/০৫/২০২৬ তারিখ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি নিজেকে সরকারী উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে একজন হোমিও ঔষধের ব্যবসায়ীর কাছে মোবাইল ও হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে ফোন দিয়ে বলে যে, “আপনার ঔষধ সেবন করে একজন শিশু মারা গিয়েছে| ৫,০০,০০০/-(পাঁচ লক্ষ) টাকা না দিলে আপনার নামে এখন মামলা হবে”| উক্ত ঔষধের দোকানদার মামলা মোকদ্দমার ভয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নগদ নাম্বারে ২০,৩০০/-(বিশ হাজার তিন শত) টাকা প্রেরণ করে|
একই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি মোবাইল ফোন ও হোয়াটস অ্যাপ ব্যবহার করে ইং ৩০/০৫/২০২৬ তারিখ নিজেকে সিআইডির এসপি জাহিদ পরিচয় দিয়ে অপর একজন বিকাশ ও নগদ ব্যবসায়ীকে ফোন এবং মেসেজ দিয়ে বলে যে, “আপনার দোকান থেকে অনলাইন জুয়ার লেনদেন করা হয়”। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে ৪০,০০০/- টাকা দিতে হবে| টাকা না দিলে তার নামে মামলা হবে|
এই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম প্রাপ্তির পর তিনি জেলা গোয়েন্দা শাখা এবং পুলিশ সুপারের আইসিটি শাখা কে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেন। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে জেলা গোয়েন্দা শাখা(ডিবি), নওগাঁর একটি চৌকস টীমকে দ্রুত গ্রেফতার অভিযানে প্রেরণ করা হয়।
অভিযানিক টীম অভিযান পরিচালনা করিয়া প্রতারক মোঃ নাইম হোসেন(২৮), পিতা- বাবু, সাং- নামা পোওতা, থানা- আদমদিঘী, জেলা- বগুড়াকে, গতকাল রাতে সান্তাহার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। উল্লেখ্য যে, গ্রেফতারকালে তার নিকট হইতে প্রতারনার কাজে ব্যবহৃত ০৪ টি মোবাইল ফোন ০৩ টি সিম কার্ড সহ বিভিন্ন কোম্পানির মোট ৩৮ টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়|
প্রতারককে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে সে বেশ কিছুদিন যাবৎ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় বিশেষ করে নিজেকে পুলিশ সুপার কখনো ওসি অথবা কখনো ডিসির পরিচয় দিয়ে অথবা কখনো বড় রাজনৈতিক নেতার পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করতো। সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ তার দ্বারা প্রতারণার শিকার হয়েছে। সে বেশ কিছুদিন যাবৎ প্রতারণার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। উক্ত বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন|



