আন্তর্জাতিক ডেস্ক:রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানিকারী দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রেখে মার্কিন কংগ্রেসে একটি নতুন আইন উত্থাপিত হয়েছে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, রুশ জ্বালানির অন্যতম শীর্ষ ক্রেতা হওয়ায় ভারতের ওপর এই আইনটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।
গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ বিলটি ২১৪-২১১ ভোটে প্রাথমিক প্রক্রিয়াগত ধাপ অতিক্রম করেছে। প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর বিলটি স্বাক্ষরের জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হবে। আইনটিতে রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে সহায়তাকারী ‘ছায়া বহর’-এর ওপর কঠোর বিধিনিষেধের প্রস্তাব করা হয়েছে।
মূলত রুশ জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমেই মস্কোকে কোণঠাসা করাই এই প্রস্তাবিত শুল্কের মূল উদ্দেশ্য। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানির ফলে দিল্লি-মস্কো সম্পর্ক যেমন নিবিড় হয়েছে, তেমনি এই বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের কারণে ওয়াশিংটনের সাথে দিল্লির দূরত্বও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর আগে গত বছরের আগস্টে রুশ তেল আমদানির প্রতিক্রিয়া হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিল, যার সাথে বিদ্যমান আরও ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক যুক্ত ছিল। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক মার্কিন-ভারত বাণিজ্য কাঠামোর আওতায় সেই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করে পাল্টা শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।
এই সামান্য শিথিলতা সত্ত্বেও, দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত বহুপ্রতীক্ষিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিটি এখনো ঝুলে রয়েছে এবং এতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে নতুন মার্কিন বিলটির উত্থাপন দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর পুনর্নবীকরণ বাণিজ্য যুদ্ধের ছায়া ফেলছে।