
সুমন কুমার বুলেট নওগাঁ জেলা
প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর জেলার মহাদেবপুর উপজেলার চাঁন্দাস ইউনিয়নে
বাগডোগ বাজারে,পুরনো প্রেমের বিরোধের জেরে সিফাত উল্লাহ সৈকত নামের এক তরুণকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে একদল যুবক। ভুক্তভোগী সিফাতের সাথে বাগডোব এলাকার একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যার পরবর্তীতে অন্য জায়গায় বিয়ে হয়ে যায়। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে মেয়েটির বর্তমান স্বামী রিমন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে সিফাতকে হুমকি দিয়ে আসছিল। গত ২৩শে এপ্রিল সন্ধ্যায় সিফাত ব্যক্তিগত কাজে বাগডোব উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটের সামনে পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রিমন ও তার সহযোগী জাকারিয়ার নেতৃত্বে ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা যুবক তার ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা লোহার রড, লাঠি এবং ধারালো হাসুয়া নিয়ে সিফাতকে ঘিরে ধরে। মামলার ১নং আসামি আল রাফি রিমন (২৮) (পিতা: আমিনুল হোসেন, গ্রাম: চান্দাশ), সিফাতের মাথায় হাসুয়া দিয়ে কোপ মারলে তিনি তা হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার ডান হাত ভেঙে যায় এবং কনুইয়ের ওপর গুরুতর জখম হয়। ২নং আসামি রুহুল আমিন (জাকারিয়া) লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সিফাতের ঘাড়ে লাগে। এরপর আসামিরা তাকে মাটিতে ফেলে এলোপাথাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে।
নৃশংসতার এক পর্যায়ে আসামিরা সিফাতের পকেট থেকে দামী একটি মোবাইল ফোন বের করে আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলে এবং পকেটে থাকা নগদ সাড়ে ছয় হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। সিফাতের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীরা এগিয়ে এলে আসামিরা তাকে পরবর্তীতে যেখানে পাবে সেখানেই খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর আহত সিফাতকে দ্রুত মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি আল রাফি রিমন এবং তার সহযোগী জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।



