দুদকের নজরে সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালীরা, বাড়ছে অনুসন্ধান-তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে সাবেক মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস ও ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরি নাসিমের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান ও তদন্তের পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ওয়াকি-টকি কেনাকাটায় অনিয়ম ও সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। একই সঙ্গে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরি ও তার স্ত্রী রুক্ষ্মীলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ এবং নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারসহ সংশ্লিষ্টদের আইল অব ম্যানের সম্পদ জব্দের বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে।

সোমবার দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

কায়কাউসের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

দুদকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাবেক মুখ্য সচিব ও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. আহমেদ কায়কাউসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগকে ‘আদানি পাওয়ার লিমিটেড ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ’ শীর্ষক চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে বিস্তারিত অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছে কমিশন।

নাসিমের বিরুদ্ধে তদন্তের পরিধি বাড়ছে

ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরি নাসিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল, নিয়োগ ও দলীয় পদ বাণিজ্য এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক।

পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ অভিযোগটি দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তদন্তাধীন একটি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করার সুপারিশ করেছে কমিশন।

ওয়াকি-টকি কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ওয়াকি-টকি কেনাকাটায় অনিয়ম ও সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় এনেছে দুদক। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে অনুসন্ধানকারী ও তদারককারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগ উঠেছে, পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা একটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে ওয়াকি-টকি সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি একটি চীনা কোম্পানির সনদ ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দামে ওয়াকি-টকি কেনার মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় এবং সংশ্লিষ্টদের ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এনফোর্সমেন্ট অভিযানও পরিচালনা করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সম্পদ নিয়ে অগ্রগতি

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরি ও তার স্ত্রী রুক্ষ্মীলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবৈধ সম্পদ এবং ব্যাংক ও ব্যবসাসংক্রান্ত নথি জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়াতেও অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

পারস্পরিক আইনি সহায়তা বা এমএলএআর-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দুদকের কাছে পাঠিয়েছে।

আইল অব ম্যানেও সম্পদ অবরুদ্ধের উদ্যোগ

এদিকে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, নাসরিন ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং ওয়ান প্রোপার্টি লিমিটেডের বিরুদ্ধে আইল অব ম্যান কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো এমএলএআরের কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, তাদের আবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পত্তি ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আইল অব ম্যান কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *