মুসলিম না হিন্দু? ৫ দিন ফ্রিজিং গাড়িতে বিল্লালের মরদেহ, শেষমেশ হাইকোর্টের নির্দেশে দাফন

নিজস্ব প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জে হত্যার শিকার যুবক বিল্লালের মরদেহ দাফন নাকি দাহ করা হবে—এ নিয়ে মা-বাবার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি হয় জটিলতা। ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধের কারণে টানা পাঁচ দিন ফ্রিজিং গাড়িতে পড়ে ছিল মরদেহ। শেষ পর্যন্ত বিষয়টির সমাধান চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় পুলিশ।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ী বিল্লালের মরদেহ দাফন করতে হবে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন বিল্লাল নামের ওই যুবক। হত্যাকাণ্ডের পর তার ধর্মীয় পরিচয় ও শেষকৃত্য নিয়ে দেখা দেয় বিরোধ।

নিহতের বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি, তার ছেলে শুভ জন্মসূত্রে হিন্দু। তাই সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মরদেহ দাহ করতে হবে। তবে মা আয়েশা বেগমের দাবি, ২০০৩ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি ও তার ছেলে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। তার বাবা নিজ ধর্মেই থেকে যান।

পুলিশকে আয়েশা বেগম জানান, তার ছেলে হলফনামার মাধ্যমে ‘শুভ’ নাম পরিবর্তন করে ‘বিল্লাল’ রাখেন। পরে মুসলিম রীতিতে তার বিয়েও হয় এবং তাদের একটি সন্তান রয়েছে। ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধ দেখা দেওয়ায় কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পেরে পুলিশ মরদেহ ফ্রিজিং গাড়িতে রাখে।

পরিস্থিতির সমাধানে শেষ পর্যন্ত ধর্মীয় পরিচয় নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় পুলিশ। শুনানির সময় নিহতের ভাই ইব্রাহিম আদালতে কোরআন থেকে সূরা পাঠ করে শোনান। তিনি জানান, তারা দুই ভাই একসঙ্গে মাদ্রাসায় পড়াশোনাও করেছেন।

পরে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত নেন আদালত। সব পক্ষের বক্তব্য ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে হাইকোর্ট বিল্লালের মরদেহ ইসলামি রীতি অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ দেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বিল্লাল মুসলমান না হলে তার বিয়ের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। আর বিয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে তার দুই বছর বয়সী সন্তানের পিতৃত্ব ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, নিহতের মা ও ভাই আদালতে উপস্থিত হয়ে জানিয়েছেন যে তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী বিল্লালের দাফন করতে চান। তার স্ত্রী ও সন্তানও উপস্থিত ছিলেন। এসব বিষয় বিবেচনায় বিল্লালের মরদেহ ইসলামি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফনের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *