অনলাইন ডেস্ক : সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত হয়েছেন। বুধবার দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। এ ঘটনায় ১৫টি আবাসিক বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রতিহত করে ধ্বংস করে। কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুই নারী, এক পুরুষ ও এক শিশু আহত হয়েছে। এতে ১৫টি আবাসিক বাড়ির সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার পর জরুরি উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ শুরু করে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি বলেন, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকাকে লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
তিনি আরো জানান, রিয়াদের উত্তরে তিনটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়া ধাহরান ও হারাদ লক্ষ্য করে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করা হয়েছে। সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে একের পর এক হামলার মধ্যে দেশটির ধাহরান শহরে সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা হয়েছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভবনটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে সীমিত পরিসরে আগুন লাগে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, প্রতিহত করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ধাহরানের একটি আবাসিক এলাকায় পড়েছে। হুতিদের বারবার হামলার পর তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছে সৌদি আরবের মন্ত্রিসভা। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রিসভা সৌদি আরবের বিমানবন্দর, মক্কা ও মদিনা, বেসামরিক অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানায়। লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সৌদি আরব। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় দেশটি।
সৌদি আরবের শনিবারের হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। রবিবার বিমানবন্দরটি আবারও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। এতে আরো একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
এদিকে মঙ্গলবার ইয়েমেনে হুতি-নিয়ন্ত্রিত স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে সামরিক অভিযান চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের দাবি, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনায় ব্যবহৃত অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছে অবস্থিত জ্বালানি মজুদ কেন্দ্রও রয়েছে।
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হওয়ার মধ্যেই এই নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।