অনলাইন ডেস্ক : শিক্ষার্থীর মায়ের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) ভুক্তভোগী নারী গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এর আগে গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার ডাকবাংলো সংলগ্ন লালমাটিয়া নুরানী ক্যাডেট মাদরাসার অভিযুক্ত শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম আটক করে পুলিশ। ওই মামলায় মোট তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। অপর দুইজন হলেন একই প্রতিষ্ঠানের মো. আবু সাইদ (৩৬) এবং মোহন মাস্টার (৩৪)।
অভিযোগে ওই নারী উল্লেখ করেন, আমার স্বামী বর্তমানে মালয়েশিয়া প্রবাসী। দুই সন্তানকে নিয়ে পৌর এলাকার বুজরুক বোয়ালিয়া প্রগতিপাড়ায় থাকেন। শিশু কন্যাকে নিয়ে মাদরাসায় যাতায়াতের কারণে ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয়। নিয়মিত ভিডিও কলে তিনি কথা বলতেন। কথাবার্তার এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তি তাকে ‘ফুসলিয়ে’ হোয়াটসঅ্যাপে কিছু অশ্লীল ছবি ও ভিডিও নেন।
পরবর্তীতে আসামি ফরিদুল ওই ভিডিও ও ছবি মো. আবু সাইদ ও মোহন মাস্টারের কাছে পাঠান। তারা দুজন ওই ভিডিও দেখিয়ে তার কাছে টাকা দাবি করতে থাকেন।
গত ৯ অক্টোবর দুপুরে তার মেয়ের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে বলে মাদরাসায় ডেকে নেওয়া হয়। তিনি সেখানে গেলে আবু সাইদ ও মোহন মাস্টার অশ্লীল ভিডিও ও ছবি দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখান তারা।
পরে ফরিদুল ওই দুইজনকে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং স্বর্ণালংকার প্রদান করে ভিডিও ও ছবি ডিলিট করতে বলেন। এরপরও তারা বিভিন্ন অংকের টাকা দাবি করতে থাকেন।
গত ২৪ অক্টোবর বিকেলে ওই দুই ব্যক্তি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আরও ৫২ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা নিয়ে অভিযুক্তদের দিতে গেলে সেসময় তার স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাদের ধরে ফেলে। এসময় আবু সাইদ ও মোহন মাস্টার পালিয়ে যায়।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম বলেন, অন্য দুই আসামি পলাতক থাকলেও মাদরাসার শিক্ষক আবু সাইদকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বাকি দুই অভিযুক্তকেও পুলিশ খুঁজছে।