মহসিন হাওলাদার বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি: ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ভোলার বোরহানউদ্দিনে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। র্যালিতে প্রধান নেতৃত্ব দেন ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিম।
অনুষ্ঠানে বোরহানউদ্দিন উপজেলার পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী যোগ দেন। ফলে র্যালি ও সমাবেশস্থল বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
র্যালি শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছিলেন।
বিএনপির বিরুদ্ধে নানা রাজনৈতিক নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর বিএনপিকে ধারাবাহিক নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। বিশেষ করে ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরবর্তী আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে দলের নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হয়। এছাড়া ভোলা-২ আসনে অতীতে বিনা ভোটে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি; বরং বিএনপি ক্ষমতায় এলে লাখ লাখ মানুষ মারা যাবে—এমন বিভ্রান্তিকর ও ভীতিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়েছিল।
এলাকার সামাজিক ও শিক্ষার উন্নয়নে নিজ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, বোরহানউদ্দিনে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও হাফিজ ইব্রাহিম কলেজসহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। একটি শিক্ষিত জাতি গঠনে শিক্ষিত মায়ের ভূমিকা অপরিসীম, তাই মানিকারে একটি নতুন গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
আলোচনা সভায় বক্তারা ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের মূল চেতনা—গণতন্ত্র রক্ষা, জাতীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উক্ত কর্মসূচিতে বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট কাজী আজম, যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল আলম নাসিম কাজী ও ফিরোজ কাজী, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলী আকবর পিন্টু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান কবির মিয়া, সহসভাপতি মোঃ বশির আহম্মেদ ও ফাইজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিহাব উদ্দিন হাওলাদার, সদস্যসচিব জসিমউদ্দিন খান; পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন মুন্সি, সদস্যসচিব আবু জাফর মৃর্ধা; উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক লিটন সিকদার, সদস্যসচিব আতিফ আসলাম রুবেল; পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নোমান হাওলাদার, সদস্যসচিব শিপন হাওলাদার; উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আশ্রাফ আলী সবুজ, সাবেক নেতা আলম খান হৃদয়, বর্তমান সভাপতি দানিশ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক তানজিল হাওলাদার; পৌর ছাত্রদলের সভাপতি শাকিল মাতাব্বর, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান ফাহিমসহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও আঃ জব্বার কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।