জমি-দলিল সেবায় সচেতনতা বাড়াচ্ছেন শাহজাদপুরের সাব-রেজিস্ট্রার

নিজস্ব প্রতিনিধি,(সিরাজগঞ্জ) : জমিজমা ক্রয়-বিক্রয় ও দলিল রেজিস্ট্রেশন নিয়ে সাধারণ মানুষের নানা প্রশ্ন, ভ্রান্ত ধারণা ও আইনি জটিলতা দীর্ঘদিনের। দলিলের খরচ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া কিংবা আইনগত সঠিক তথ্য না জানার কারণে অনেকেই বিড়ম্বনায় পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সহজ ভাষায় আইনি ধারণা ও তথ্য পৌঁছে দিতে সরকারি দাপ্তরিক সেবার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ রবিউল ইসলাম।

শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে আসা সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমি ও দলিল-সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় সাব-রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে সরাসরি প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাচ্ছেন তারা। কোনো বিষয় বুঝতে অসুবিধা হলে তিনি অত্যন্ত সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দেন, এমনকি প্রয়োজনে কাগজে লিখেও বিষয়টি পরিষ্কার করেন।

দাপ্তরিক সেবার পাশাপাশি ‘Rabiul Islam’ নামের নিজস্ব ফেসবুক পেজে দলিল রেজিস্ট্রেশনের ব্যয়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জমি-সংক্রান্ত নানা বিষয়ে শিক্ষণীয় ভিডিও প্রকাশ করছেন তিনি। মাঝে মাঝে ফেসবুকে লাইভে এসে সরাসরি আইনি পরামর্শ ও প্রশ্নের সমাধানও দিচ্ছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই দলিল রেজিস্ট্রেশনের সম্ভাব্য খরচ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নিয়ে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারছেন, যা কার্যালয়ে অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমিয়ে এনেছে।

তবে অনলাইন-ভিত্তিক এই উদ্যোগ চালাতে গিয়ে তাকে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে নানা প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতার মুখোমুখিও হতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও সেবা বন্ধ করেননি তিনি। বর্তমানে তাঁর ফেসবুক পেজে ২ লাখেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে এবং তথ্যভিত্তিক এই সেবার কারণে দিন দিন তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সেবা নিতে আসা শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের ছোট মহারাজপুর গ্রামের মোঃ নায়েব আলী বলেন, “বোনদের কাছ থেকে জমি রেজিস্ট্রি করার সময় পিতা-মাতার নামের বানানে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। পরে সাব-রেজিস্ট্রার কর্মকর্তার পরামর্শে কোনো হয়রানি ছাড়াই সহজে দলিল রেজিস্ট্রি করতে পেরেছি। এছাড়া সাব-রেজিস্ট্রার কর্মকর্তার ফেসবুক ভিডিও দেখে আমার নিজস্ব আরো কিছু জমির জটিলতার সমাধান পেয়েছি।”

শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের দলিল লেখক মোঃ আনিছুর রহমান জানান, “বর্তমান সময়ে নির্ভুল দলিল রেজিস্ট্রি করতে নানা জটিলতায় পড়তে হয়। সেক্ষেত্রে সাব-রেজিস্ট্রার কর্মকর্তার কাছ থেকে সহজে পরামর্শ পাওয়ায় নির্ভুলভাবে কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *