তৌফিক ইকবাল মহাদেবপুরঃ নওগাঁর মহাদেবপুরে ভাংরির ব্যবসায়ী টাকা ছিনতাই ৩ জন গ্রেফতার, ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা উদ্ধার৷ পুলিশ সুপার ও ডিবি পুলিশের তত্ত্বাবধানে নওগাঁ জেলা পুলিশের ঝটিকা অভিযানে গত সন্ধ্যায় মহাদেবপুরে ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাতের মধ্যেই তিনজন ছিনতাইকারী গ্রেফতার হয়েছে। ছিনতাইকৃত টাকার মধ্যে ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারেন, গতকাল সন্ধ্যায় মহাদেবপুর উত্তর গ্রামের চৌদ্দ মাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশে ফাঁকা রাস্তায় একটি পিকআপ জোরপূর্বক থামিয়ে মোটরসাইকেলযোগে কয়েকজন দুষ্কৃতকারী মালামাল বিক্রির নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। ঘটনার খবর পাওয়ামাত্র গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ হাসিমের নেতৃত্বে শক্তিশালী টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
বাদী মেসার্স সোহাগ আয়রন স্টোরের মালিক আব্দুল আলিম (৩৪)। তার ড্রাইভার সোহেল রানা (২৫) ও দোকানের ম্যানেজার মজনু মিয়া (৩৫) বগুড়ায় মালামাল বিক্রি করে নগদ টাকা নিয়ে মহাদেবপুর ফিরছিলেন। অনুমান ৭:২০ টার দিকে পিকআপ বিকল হলে দুষ্কৃতকারীরা এসে ড্রাইভারকে হালকা ও ম্যানেজারকে ব্যাপক মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেয়।
জেলা গোয়েন্দা শাখা তথ্যপ্রযুক্তি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও ডাটা বিশ্লেষণ ব্যবহার করে অল্প সময়ে আসামিদের সনাক্ত করে। ডিবি নওগাঁ ও মহাদেবপুর থানা পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে আসামি মুন্না (২৪)-কে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে এবং ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করে। তার দেওয়া তথ্যে রবিন (২৫)-কে ভাড়াবাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার কাছ থেকে ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়। পরে দুই আসামির তথ্য অনুযায়ী ড্রাইভার সোহেল রানাকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ছিনতাইয়ের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন সোহেল ও মুন্না, আর প্রধান ভূমিকায় ছিলেন রবিন। তারা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পরিকল্পনা করছিল।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ সড়কে যেকোনো ধরনের অপরাধ, বিশেষ করে ছিনতাই ও ডাকাতি কঠোর হস্তে দমন করবে।