বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি: মেঘনা নদীর ভয়ংকর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষায় ৬০৫ কোটি ২৪ লাখ ৩৩ হাজার টাকার একটি মেগা প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন লাভ করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদনের খবরে বোরহানউদ্দিন উপজেলায় আনন্দ মিছিল করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের এলাকাবাসী।
শুক্রবার (২ অক্টোবর ২০২৬) আয়োজিত এই আনন্দ মিছিল থেকে প্রধানমন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। একই সঙ্গে নদীভাঙন রোধে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কাজী আজম এবং পৌর বিএনপির সভাপতি কবির মিয়ার যৌথ নেতৃত্বে আনন্দ মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা যুবদলের সভাপতি শিহাব হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল ইসলাম (মিঠু); পৌর যুবদলের সভাপতি হেলাল মুন্সী ও সাধারণ সম্পাদক জাফর মৃধা।
এ ছাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি লিটন শিকদার, সাধারণ সম্পাদক আতিফ আসলাম (রুবেল), পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নোমান হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক শিপন হাওলাদার; উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি দানিস চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক তানজিল হাওলাদার, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি শাকিল মাতাব্বর, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান ফাহিম এবং আবদুল জব্বার কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক সিয়াম হাওলাদারসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ভোলা সদর ও দৌলতখানের নদীভাঙন কবলিত জনপদ রক্ষায় প্রকল্পটি পাস হয়। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৫ কোটি ২৪ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।
প্রকল্পটির আওতায় মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ৪ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৬ কিলোমিটার বাঁধ সংরক্ষণ এবং ৩.৫৫ কিলোমিটার বাঁধের ঢাল সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ও পানি নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদীর ভাঙনে নদীতীরবর্তী এলাকার বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মারাত্মক হুমকির মুখে ছিল। এ অবস্থায় স্থায়ী বাঁধ ও তীর সংরক্ষণের এই বড় অঙ্কের প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ায় স্থানীয় মানুষের মনে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।
মিছিলে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী বলেন, নদীভাঙন কেবল ঘরবাড়ি ও জমিজমা গ্রাস করে না, কেড়ে নেয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও শেকড়ের স্মৃতি। তাই প্রকল্পের দ্রুত ও মানসম্মত বাস্তবায়ন কামনা করেন তারা। মিছিল শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।