অনলাইন ডেস্ক: বাড়ির আঙ্গিনায় সুন্দর ফুলের বাগান মানসিকভাবে যেমন প্রশান্তি দেয়, তেমনি ঘরের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। তবে অনেকেই মনে করেন, হাসনাহেনা কিংবা জুঁইয়ের মতো তীব্র সুবাসিত ফুলের গাছে সাপ আকৃষ্ট হয়।
এই ভয়ে অনেকে পছন্দের গাছ বাগানে লাগাতে দ্বিধাবোধ করেন, এমনকি কেটেও ফেলেন। কিন্তু বাস্তবেই কি হাসনাহেনার গন্ধে সাপ আসে?
উদ্ভিদ ও প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট ফুলের সুবাস বা গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে সাপ বাগানে আসে, এমন ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তাহলে কেন কিছু গাছের আশপাশে সাপ দেখা যায়? আসল কারণ লুকিয়ে আছে গাছের গঠন এবং চারপাশের পরিবেশের ওপর।
লুকানোর উপযোগী পরিবেশ
হাসনাহেনা, জুঁই বা নয়নতারার মতো গাছগুলো খুব দ্রুত বাড়ে এবং ঘন ঝোপঝাড়ে পরিণত হয়।
জুঁই গাছ মাটির কাছাকাছি ঘন হয়ে ছড়িয়ে পড়ে, আর নয়নতারা মাটির ওপর ঘন পাতার স্তর তৈরি করে। গাছগুলো বেশি ঘন হয়ে গেলে নিচে আলো-বাতাস ঢুকতে পারে না। ফলে সেখানে একটি অন্ধকার, ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। যদি গাছের নিচে ঝরে পড়া শুকনো পাতা বা আবর্জনা জমে থাকে, তবে সেটি সাপের লুকিয়ে থাকার অত্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়।
খাবারের লোভ
সাপ মূলত খাদ্যের সন্ধানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়ায়। কিছু গাছের ঘন ঝোপঝাড়ের আশপাশে পোকামাকড়, ব্যাঙ কিংবা ইঁদুরের উপদ্রব বেশি থাকে। আর এগুলোই সাপের প্রধান খাদ্য। ফলে ফুল বা গাছের গন্ধে নয়, বরং খাবারের লোভেই এসব জায়গায় সাপের আনাগোনা বাড়তে পারে।
বাগান নিরাপদ রাখতে যা করবেন
বাগানে এসব ফুলের গাছ থাকলে আতঙ্কিত হয়ে সেগুলো কেটে ফেলার কোনো প্রয়োজন নেই।
কিছু নিয়ম মেনে চললেই বাগান থাকবে একদম নিরাপদ।
নিয়মিত ছাঁটাই : গাছের অতিরিক্ত ডালপালা ও ঘন ঝোপঝাড় নিয়মিত কেটে হালকা রাখুন, যেন নিচে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পৌঁছাতে পারে।
পরিচ্ছন্নতা : গাছের গোড়ায় ঝরা পাতা, ডালপালা বা ময়লা-আবর্জনা জমতে দেবেন না।
পানি জমতে না দেওয়া : বাগানের কোথাও যেন অতিরিক্ত পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। এ ছাড়া ইঁদুর বা ব্যাঙের উপদ্রব কমানোর ব্যবস্থা নিন।
মূলত গাছের নামের চেয়ে বাগানের পরিবেশ কতটা পরিষ্কার, তার ওপরই নির্ভর করে সেখানে সাপের উপস্থিতি। আলো-বাতাসপূর্ণ ও গোছানো বাগানে সাপের আশ্রয় নেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। তাই ভীতি ঝেড়ে ফেলে সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমেই নিজের বাগানকে সুন্দর ও নিরাপদ রাখুন।