মহাদেবপুরে শিক্ষা, কৃষি ও সামাজিক উন্নয়নে নানা উদ্যোগ এমপি ফজলে হুদার

তৌফিক ইকবাল, মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ ফজলে হুদা বাবুল নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার, কৃষি, ক্রীড়া, সামাজিক নিরাপত্তা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে নিরলস কাজ করছেন। বিশেষ করে মহাদেবপুর উপজেলার দীর্ঘদিনের শিক্ষা-সংকট নিরসন, যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

শিক্ষা খাতে তাঁর একটি বড় সাফল্য হলো মহাদেবপুরের ঐতিহ্যবাহী জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজে অনার্স পর্যায়ে নতুন ৯টি বিষয় (ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, প্রাণিবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা) চালুর অনুমোদন অর্জন। গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ অনুমোদন দেয়, যার পেছনে সংসদ সদস্যের জোরালো আবেদন ও সুপারিশ যুক্ত ছিল। এ বিষয়গুলো চালু হওয়ার ফলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বহুগুণ বাড়বে। এছাড়া উপজেলার প্রাচীন ও শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার মান বৃদ্ধিতেও তিনি নিয়মিত তদারকি করছেন।

তরুণদের মাদক, অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার প্রসারে বিশেষ নজর দিচ্ছেন সংসদ সদস্য। সম্প্রতি লক্ষীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি স্থানীয় ক্রীড়াচর্চাকে উৎসাহিত করেন। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে তিনি সরাসরি সম্প্রচারিত ‘কেমন এমপি পেলাম’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষের নানা প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় মহাদেবপুর ও বদলগাছী এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি সার, বীজ ও কৃষি উপকরণের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করে প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করছেন। একই সাথে এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত আত্রাই নদীকে অবৈধ দখল ও দূষণ থেকে মুক্ত করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির এক বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন তিনি।

এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষার জন্য সান্ধ্যকালীন স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হস্তশিল্প ভিত্তিক প্রশিক্ষণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। স্থানীয়দের মতে, এসব উদ্যোগের সঠিক বাস্তবায়ন হলে মহাদেবপুর ও বদলগাছীর শিক্ষা, কৃষি ও সামাজিক উন্নয়ন আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *